1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. banglarmukh71@gmail.com : admin1 :
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:২০ অপরাহ্ন

সরকারি মেডিক্যালের নিষ্ক্রিয়তা ক্যান্সার চিকিৎসা বেসরকারিতে

  • আপডেট করা হয়েছে বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৭৪ বার পড়া হয়েছে
  • স্টাফ রিপোর্টার

ক্যান্সার চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ ‘রেডিয়েশন থেরাপি’ বেসরকারি হাসপাতালনির্ভর হয়ে পড়েছে। ৯টি সরকারি হাসপাতালের ১৫টি রেডিয়েশন মেশিনের মধ্যে ১২টি অচল। চিকিৎসা পেতে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। রেডিয়েশনের জন্য গুনতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ গুণ বেশি টাকা। এতে দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এই চিকিৎসা নেওয়া এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় এক বছর লেগে যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যান্সার চিকিৎসার একটা পর্যায়ে রেডিয়েশন থেরাপি দিতে হয়। সরকারি হাসপাতালে মাত্র এক শ থেকে দুই শ টাকার বিনিময়ে এই থেরাপি পাওয়া গেলেও বেসরকারি হাসপাতালে গুনতে হয় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে থেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় এর সংখ্যা বাড়ছে। কয়েক বছর আগে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪টি মেশিন ছিল। এখন আছে ১৫টি। সরকারি হাসপাতালে সেবা না থাকায় রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালে রেডিয়েশন থেরাপির মেশিন আছে ৫টি। এর মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক ‘লিনিয়ার এক্সিলারেটর’। আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে আছে ৩টি, এর মধ্যে দুটি ‘লিনিয়ার এক্সিলারেটর’। এ ছাড়া ইউনাইটের হাসপাতালে দুটি, ল্যাবএইড হাসপাতালে দুটি, সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুটি এবং এভার কেয়ার হাসপাতালে একটি মেশিন রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মেশিন রয়েছে ৬টি। এর মধ্যে দুটি কোবাল্ট ও চারটি লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে রয়েছে দুটি। একটি কোবাল্ট, আরেকটি লিনিয়ার। বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে একটি। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে একটি করে রেডিয়েশন থেরাপির মেশিন রয়েছে। ফরিদপুর ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজে একটি করে লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন বরাদ্দ করা হলেও সেগুলো বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ছয়টি মেশিনের মধ্যে পাঁচটি অচল। আগে সেখানে সেবা পেতেন ৭শ থেকে সাড়ে ৮শ রোগী। এখন পান ৮০ থেকে ১০০ জন। চট্টগ্রাম ও সিলেট মেডিক্যাল কলেজের মেশিন দুটি চলছে। রাজশাহীর মেশিনটি চলছে কোনোমতে। বাকিগুলো অচল।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ক্যান্সার রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেশিনপত্র কেনাকাটায় কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে দ্রুত সব সমস্যা সমাধান করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, এখানে কোবাল্ট মেশিনে একবার থেরাপি নিতে রোগীক দিতে হয় ১০০ টাকা। অন্যদিকে লিনিয়ার মেশিনের থেরাপি নিতে দিতে হয় ২০০ টাকা। সব সরকারি হাসপাতালে একই খরচে থেরাপি নেওয়া যায়। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে রেডিয়েশন থেরাপির প্লানিং করতে ফি দিতে হয় ১৫শ টাকা। একজন রোগীকে একটি কোর্স সম্পন্ন করতে ছয়বার থেরাপি নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে হাজার টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালে একই সেবা পেতে রোগীকে গুনতে হয় কমপক্ষে ৮৭ হাজার টাকা (কোবাল্ট মেশিনে থেরাপি নিতে)। প্রতি এক্সপোজার ২৫০০ টাকা করে, এর সঙ্গে প্লানিং বাবদ ২৫ হাজার টাকা। একই থেরাপি লিনিয়ার মেশিনে নিতে হলে রোগীকে গুনতে হবে এক লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রতি এক্সপোজার ৩৫০০ টাকা করে, এর সঙ্গে প্লানিং বাবদ ৩৫ হাজার টাকা।

বেসরকারি হাসপাতাগুলোয় মূলত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরাই বসেন। তারা ক্যানসারের অনেক রোগীকে ভালো চিকিৎসার কথা বলে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলেন। অভিযোগ আছে, একজন রোগী বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন পান। এ কারণে নষ্ট মেশিন ঠিক করার বিষয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকৎসকদের কোনো আগ্রহ নেই। এমনকি জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মেশিন কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও বিগত দুজন পরিচালক মেশিন কেনা থেকে বিরত থেকেছেন।

বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় থেরাপি পেতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। ডেল্টা ও আহছানিয়া মিশন হাসপাতালে সিরিয়াল পেতে লাগে ১৫ দিন থেকে দেড় মাস।

ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী বলেন, মেশিন নষ্ট থাকলে সেটা কিনতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় কেনাকাটা সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। অডিট আপত্তির বিষয়টিও জড়িত থাকে। ফলে পরিচালকরা নিজ দায়িত্বে এগুলো করতে চান না। আবার বেশি উদ্যোগী হলেও বিপদ, পরিচালকরা নিজেরা নিরাপদ থাকতে চান। এ জন্যই সরকারি হাসপাতালগুলোর মান ধরে রাখা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মেশিনপত্র ঠিক করতে হলে পরিচালককে ক্ষমতা দিতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে দ্য গ্লোবাল ক্যান্সার অবজারভেটরি ২০২০ সালে ক্যান্সার বিষয়ে অনুমিত তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, দেশে প্রতিবছর দেড় লাখ মানুষ নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। রোগটিতে বছরে মৃত্যু হয় অন্তত ১ লাখ ৮ হাজার মানুষের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। দেশে মানুষ প্রায় ১৭ কোটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী ১৭০টি ক্যান্সার চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে ক্যান্সার চিকিৎসা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে ৩৩টি। এর মধ্যে বিকিরণ যন্ত্র আছে ১৯টিতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) শেখ দাউদ আদনান বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসায় সব ধরনের সেবা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বাইরে আরও আটটি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল হচ্ছে। ক্যান্সার রোগের ট্রিটমেন্ট টেকনোলজি দ্রুত পরিবর্তন হয়। দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা সেবাদানকারী হাসপাতালে নতুন টেকনোলজি নিশ্চিত করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। আধুনিক ক্যান্সার সেবা নিশ্চিত করা একটা চ্যালেঞ্জ। সরকারি সব হাসপাতালে আধুনিক প্রযুক্তি মেশন ২০২৩-এর মধ্যে স্থাপন করা হবে।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন