1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. banglarmukh71@gmail.com : admin1 :
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

আসছে সাড়ে সাত লাখ কোটি টাকার বাজেট

  • আপডেট করা হয়েছে বুধবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে
  • অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য সরকার ৭ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট তৈরি করতে যাচ্ছে। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে গতকাল মঙ্গলবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিল ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এতে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। তার আগের, অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে দেশের অর্থনৈতিক খাতে বেশ কয়েকটি ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ। এর পাশাপাশি মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রিজার্ভ কমে যাওয়াও দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি আগামী অর্থবছরেও থাকবে বলে আশঙ্কা করা হয়।

জানা গেছে, আগামী বছরেও ডলার সংকট মোকাবিলা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে। এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সংকট আরও প্রকট আকার ধারতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এ বিষয়ে বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আগামী ২০২৩ সাল সারাবিশ্বের জন্য কঠিন সময় যাবে। সে সূত্রে বাংলাদেশের জন্যও কঠিন যাবে। বিশেষ করে দেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই উল্টোপথে যাওয়া যাবে না। সমাধান করতে গিয়ে বিপরীতমুখী পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

অর্থবিভাগের একটি সূত্র জানায়, সভায় সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রপ্তানি, আমদানি, রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট বাস্তবায়ন, রিজার্ভ, ডলারের দর, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও জিডিপি নিয়ে আলোচনা করা হয় বৈঠকে। সূত্র জানিয়েছে, সরকারকে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ।

জানা গেছে, চলমান অর্থনৈতিক সংকটে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। যার চিত্র ফুটে উঠেছে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে। গত নভেম্বর পর্যন্ত এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দের মাত্র ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ২০ শতাংশ কম।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৭ হাজার ১২২ কোটি টাকা। এ বছর এডিপিতে বরাদ্দ ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের তুলনায় বাস্তবায়ন ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে গত অক্টেবরের তুলনায় এডিপি বাস্তবায়ন বেড়েছে। গত অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়ন ছিল ১২.৬৪ শতাংশ। যা গত পাঁচ অর্থবছরের তুলনায় সর্বনিম্ন।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এনবিআর রাজস্ব আদায় করেছে ৯০ হাজার ৯০১ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল ৯৭ হাজার ৩০৬ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় হাজার ৪০৪ দশমিক ৮৭ কোটি টাকার মতো ঘাটতি রয়েছে।

অক্টোবর মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩ হাজার ৭৭৭ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল ২১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ১৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অথচ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ।

শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন