1. shahalom.socio@gmail.com : admin :
  2. dbcjournal24@gmail.com : ডিবিসি জার্নাল ২৪ : ডিবিসি জার্নাল ২৪
  3. banglarmukh71@gmail.com : admin1 :
  4. : :
সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৈনিক মুক্ত খবরের ২১তম বর্ষ উদযাপিত দাউদকান্দিতে বিকেএ কুমিল্লা (প.) জেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা বুড়িচংয়ে নারীকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা আটক ৩ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ নেতা বুড়িচংয়ে যাকাত ও ছদাকাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায়ের মাঝে প্রকল্প বিতরণ বুড়িচংয়ে কৃষি শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী অনুষ্ঠিত সাত গ্রামের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. রেজাউল করিম বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির ঈদ পুনর্মিলনী আমরা আছি মানবতার সেবায় সংগঠনের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন ৬০ বিজিবি’ উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার এবং খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

বরকতময় রজনীঃ শবে বরাত আজ

  • আপডেট করা হয়েছে সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১
  • ২৭৮ বার পড়া হয়েছে
                                                 গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়, শয়তানের কুমন্ত্রণায় বা নফসের তাড়নায় মানুষ বিপথগামী হয় বা পাপাচারে লিপ্ত হয়। মানুষের পাপ বা গুনাহ মোচনের জন্য আল্লাহ তায়ালা তওবা ও ইস্তিগফারের ব্যবস্থা রেখেছেন। বিশেষ কিছু দিবস ও রজনী দিয়েছেন, এর মধ্যে অন্যতম হলো শবে বরাত। শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত ‘শবে বরাত’। শবে বরাত কথাটি ফারসি। শব অর্থ রাত, বরাত অর্থ মুক্তি; শবে বরাত মানে মুক্তির রজনী। আরবি হলো ‘লাইলাতুল বরাত’। হাদিস শরিফে একে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্যরাত বলা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের বাণী: ‘হা মিম! শপথ! সুস্পষ্ট কিতাবের, নিশ্চয় আমি তা নাজিল করেছি এক বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি ছিলাম সতর্ককারী। যাতে সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারিত হয়। এ নির্দেশ আমার তরফ থেকে, নিশ্চয় আমিই দূত পাঠিয়ে থাকি। এ হলো আপনার প্রভুর দয়া, নিশ্চয় তিনি সব শোনেন ও সব জানেন। তিনি নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও এ উভয়ের মধ্যে যা আছে, সেসবের রব। যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করো, তিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, তিনিই তোমাদের লালন পালনকারী আর তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও। তবু তারা সংশয়ে খেলা করে। তবে অপেক্ষা করো সেদিনের, যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াচ্ছন্ন হবে।’ (সুরা দুখান, আয়াত: ১-১০)। মুফাসসিরিনগণ বলেন: এখানে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রজনী বলে শাবান মাসের পূর্ণিমা রাতকেই বোঝানো হয়েছে। (তাফসিরে মাযহারি, রূহুল মাআনি ও রূহুল বায়ান)।
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা শাবানের মধ্যবর্তী রাতে মাখলুকাতের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ্ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)। হজরত আওফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে ইবনে খুজাইমা হজরত আবু বকর (রা.) থেকে এবং আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে এ রকম বর্ণনা করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৯০, রাজীন: ২০৪৮; সহিহ্ ইবনে খুজাইমা, কিতাবুত তাওহিদ, পৃষ্ঠা: ১৩৬)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আল্লাহ তায়ালা এ রাতে বিদ্বেষ পোষণকারী ও নিরপরাধ মানুষকে হত্যাকারী ছাড়া বাকি সব বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। (মুসনাদে আহমদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৭৬)। হজরত উসমান ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা মুশরিক ও ব্যভিচারিণী ছাড়া সবার ইচ্ছা পূরণ করে থাকেন। (শুআবুল ইমান, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৮৩)। হজরত আবু সালাবা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন শাবানের মধ্যরাত আসে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মাখলুকাতের প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান; মুমিনদিগকে ক্ষমা করে দেন, কাফিরদের ফিরে আসার সুযোগ দেন এবং হিংসুকদের হিংসা পরিত্যাগ ছাড়া ক্ষমা করেন না। (কিতাবুস সুন্নাহ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৮২)।
হাদিস শরিফে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রাতে মদিনার কবরস্থান ‘জান্নাতুল বাকি’তে এসে মৃতদের জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। তিনি আরও বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বলেছেন, এ রাতে বনী কালবের ভেড়া বকরির পশমের পরিমাণের চেয়েও বেশিসংখ্যক গুণাহগারকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। (তিরমিজি শরিফ: ৭৩৯)।
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : ১৪ শাবান দিবাগত রাত যখন আসে, তখন তোমরা এ রাতটি ইবাদত–বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলায় রোজা রাখো; কেননা এদিন সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং আহ্বান করেন: কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছো কি? আমি ক্ষমা করব; কোনো রিজিকপ্রার্থী আছো কি? আমি রিজিক দেব; আছো কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে উদ্ধার করব। এভাবে ভোর পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা বান্দার বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে আহ্বান করতে থাকেন। (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৪)।
শবে বরাত উপলক্ষে রোজা রাখা, নামাজ পড়া, নামাজে কিরাত ও রুকু–সিজদা দীর্ঘ করা; কোরআন শরিফ তিলাওয়াত করা; দরুদ শরিফ বেশি বেশি পড়া; ইস্তিগফার বেশি পরিমাণে করা; দোয়া কালাম, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আজকার ইত্যাদি করা; কবর জিয়ারত করা; নিজের জন্য, পিতা মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও মুমিন মুসলমানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা উত্তম।
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, ইসলামী বিষয়ক লেখক ও চেয়ারম্যান, গাউছিয়া ইসলামিক মিশন – কুমিল্লা। মোবাইলঃ01718-228446
শেয়ার করুন

কমেন্ট করুন

আরো সংবাদ পড়ুন